অনেকেই প্রশ্ন করেন, এশার নামাজ ১৭ রাকাত কি সঠিকভাবে নির্ধারিত একটি সংখ্যা, নাকি এটি বিভিন্ন নামাজের সমন্বয়ে গঠিত? এই বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের এশার নামাজের প্রতিটি অংশ আলাদা করে জানা জরুরি। এশার নামাজ মূলত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমে রয়েছে ৪ রাকাত সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদা, যা ফরজের আগে পড়া হয়। এরপর ৪ রাকাত ফরজ নামাজ, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ।
ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা পড়া হয়, যা রাসূল (সা.) নিয়মিত আদায় করতেন। তারপর আসে ৩ রাকাত বিতর নামাজ, যা ওয়াজিব হিসেবে গণ্য। সবশেষে কেউ চাইলে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়তে পারেন। এইভাবে হিসাব করলে মোট রাকাত দাঁড়ায় ৪ + ৪ + ২ + ৩ + ২ = ১৫ রাকাত। তবে অনেকেই অতিরিক্ত নফল নামাজ যুক্ত করে ১৭ রাকাত পর্যন্ত আদায় করে থাকেন। এজন্য “১৭ রাকাত” ধারণাটি কিছু মানুষের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে, যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফরজ, সুন্নত এবং নফল নামাজের পার্থক্য বোঝা। ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়া গুনাহ, সুন্নত নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং না পড়লে গুনাহ হয় না (তবে সুন্নতে মুআক্কাদা নিয়মিত না পড়া ভালো নয়)। আর নফল নামাজ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক, যা অতিরিক্ত সওয়াবের জন্য পড়া হয়। অনেক সময় ভুল ধারণার কারণে মানুষ মনে করে এশার নামাজ অবশ্যই ১৭ রাকাত পড়তে হবে, যা সঠিক নয়। ইসলামে নির্ধারিত ফরজ এবং ওয়াজিব অংশগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।